
উপকৃত হবে আড়াই লাখেরও বেশি পরিবার জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা, নিরাপদ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোক্তা উন্নয়নের মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) আজ Growth for Climate Resilient and Environmental Entrepreneurship and Nutrition (GREEN) প্রকল্পের উদ্বোধন করেছে।
ঢাকায় পিকেএসএফ ভবন ১-এ আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিকেএসএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ ফজলুল কাদের। অনুষ্ঠানে GREEN প্রকল্প গ্রহণের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পিকেএসএফ-এর উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আকন্দ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। প্রকল্পের ওপর একটি উপস্থাপনা দেন পিকেএসএফ-এর উপ-মহাব্যবস্থাপক ও প্রকল্প সমন্বয়কারী মোঃ হাবিবুর রহমান। এছাড়া, পিকেএসএফ-এর উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালকবৃন্দ একিউএম গোলাম মাওলা, মোঃ মশিয়ার রহমান, এবং মুহম্মদ হাসান খালেদ পিকেএসএফ-এর বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেন।
প্রকল্পের আওতায় হাওর, উপকূল, বরেন্দ্র ও চরাঞ্চলসহ দেশের ২ লাখ ৫৮ হাজারের বেশি পরিবার প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হবে। জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠী, নারী, যুব, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, সামাজিকভাবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে জলবায়ু-সহনশীল খাদ্যব্যবস্থা, সবুজ প্রযুক্তি, টেকসই উদ্যোক্তা উন্নয়ন, অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক সেবা এবং সহযোগী সংস্থাসমূহের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদারে প্রকল্পটি কাজ করবে।
প্রকল্পের উপস্থাপনায় উল্লেখ করা হয় যে, ২০২৬–২০৩১ মেয়াদে বাস্তবায়িতব্য এ প্রকল্পে মোট ২১১.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হবে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ) ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেবে। বাকি অর্থ পিকে এসএফ ও সহযোগী সংস্থাসমূহ যোগান দেবে। এ যৌথ বিনিয়োগ দেশের জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ এবং পুষ্টি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে প্রচলিত ক্ষুদ্রঋণের ধারণা পেরিয়ে প্রবৃদ্ধিনির্ভর অর্থায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে পিকেএসএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ ফজলুল কাদের বলেন, “GREEN প্রকল্পের মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোগ খাতকে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তিতে রূপান্তরিত করতে পিকেএসএফ কাজ করবে। ডিজিটাল ফাইন্যান্সিং, এগ্রো-ইকোলজিক্যাল কৃষি, কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগ, স্থানীয় পর্যায়ে অ্যাগ্রো-প্রসেসিং ও প্রাথমিক কৃষি পণ্যের সাথে মূল্য সংযোজন, নিরাপদ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যব্যবস্থা, সৌরশক্তির ব্যবহার এবং সার্কুলার ইকোনমির প্রসারে গুরুত্ব দেওয়া হবে।” পাশাপাশি ক্রিয়েটিভ ইকোনমি ও ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পরিবেশবান্ধব নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে সহযোগী সংস্থাসমূহের নির্বাহী প্রধান ও প্রতিনিধিগণ উপকূলীয় নারীদের জন্য কুটির শিল্পভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও বাজার-সংযোগ, শিল্পদূষণ ও কার্বন নিঃসরণ মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান, হাওরাঞ্চলে এআইভিত্তিক আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা এবং কৃষকদের জন্য বীমা ও ঝুঁকি তহবিল গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সুপারিশ করেন।