April 19, 2026, 5:31 pm
শিরোনাম:
উদ্ভাবনের পথপ্রদর্শক ৬৪টি উদ্যোগকে সম্মাননা প্রদান করা হয় বাংলাদেশ রিটেইল অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এর ৩য় সংস্করণে জ্ঞানভিত্তিক রূপান্তরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ রিটেইল কংগ্রেস ২০২৬ অনুষ্ঠিত তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত ও সচেতনতার মাধ্যমে টেকসই ও মানবিক কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বারোপ ৯ম রানার প্রেসিডেন্ট কাপ গলফ টুর্নামেন্ট ২০২৬ সমাপ্তি ‘আমরা নারী’ ও ‘ইউনিকো হসপিটালস পিএলসি’-এর মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর সাথে চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ নউিইর্য়কস্থ বাংলাদশে কনস্যুলটে জনোরলে-এ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দবিস রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হলো থাইল্যান্ড বাংলাদেশ এডুকেশন সামিট ২০২৬ জ্বালানি সাশ্রয়,যানজট কমাই, সাইকেল লেন ও পার্কিং সুব্যবস্থা চাই”

বাংলাদেশের কর্মক্ষেত্রে মানসম্পন্ন শিশু পরিচর্যা উন্নয়নে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা

Reporter Name

শিশুদিবাযত্ন কেন্দ্র এবং পরিচর্যাকারীর বিকাশ না হলে কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ ক্রমেই হ্রাস পাবে

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ-বিলস ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান লাইটক্যাসেল পার্টনার্স এর উদ্যোগে এবং আইএলও বাংলাদেশ এর  সহযোগিতায় আজ  ১২ মার্চ ২০২৬ রাজধানীর বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশের কর্মক্ষেত্রে মানসম্পন্ন শিশু পরিচর্যা বিষয়ে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।  অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের কর্মক্ষেত্রে শিশু পরিচর্যার বর্তমান অবস্থা ও এর মান উন্নয়ন বিষয়ে গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য, জাতীয় ন্যূনতম মানদন্ড বিষয়ে নির্দেশনা, কমিউনিটি পর্যায়ে পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশ শ্রম আইন (সংশোধনী অধ্যাদেশ-২০২৫) এর আলোকে সুপারিশমালা তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে ট্রেড ইউনিয়ন, মালিকপক্ষের সংগঠন ও নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিকভাবে মানসম্পন্ন শিশু পরিচর্যাকে কর্মক্ষেত্রে নারীশ্রমশক্তির অংশগ্রহণ ও শিল্পে উৎপাদন বৃদ্ধির একটি অন্যতম গুরুত্বপুর্ণ পুর্বশর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হলেও বাংলাদেশে এর  বাস্তবায়নে কাঠামোগত ও প্রায়োগিক দুর্বলতা বিদ্যমান। আইএলও কনভেনশন-১৫৬ মাতৃত্বকালীন সুরক্ষা ও কমিউনিটি পর্যায়ে শিশু পরিচর্যা সংক্রান্ত সেবার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এবং দেশে শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র আইন, ২০২১ প্রণীত হলেও বাস্তবিক অর্থে এর মান উন্নয়নে পরিদর্শনগত দুর্বলতা রয়েছে এবং ক্ষেত্রবিশেষে তা শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ বলে অনুষ্ঠানে উল্লেখ করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ হুমায়ুন কবীর, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের অতিরিক্ত মহাসচিব মোঃ সাইদুল ইসলাম, বিলস এর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) এর যুগ্ম সমন্বয়কারী আহসান হাবীব বুলবুল, বিলস উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য নইমুল আহসান জুয়েল, নির্বাহী পরিষদ সম্পাদক সাকিল আখতার চৌধুরী, আইএলও’র প্রকল্প কর্মকর্তা নিরান রামজুঠান প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, শিশু পরিচর্যাকে শ্রম অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি না দিতে পারলে নারীর শ্রম অধিকার বিপন্ন হবে। এ বিষয়ে শ্রম পরিদর্শন সহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। তারা আশংকা প্রকাশ করেন, শিশুর বিকাশে দিবাযত্ন কেন্দ্র এবং পরিচর্যাকারীর উন্নয়ন না হলে কর্মক্ষেত্রে ও শ্রম শক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ ক্রমেই হ্রাস পাবে। এ ক্ষেত্রে সক্ষমতার মধ্যে থেকে সেবার মান উন্নয়ন করে এই সেবাকে সার্বজনীন করার ওপর তারা জোর দেন। তবে শ্রম পরিদর্শন অধিদপ্তরে কর্মকর্তা ও কর্মচারীর স্বল্পতার বিষয়টি এ ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা হিসেবে তারা উল্লেখ করেন। এ ছাড়া শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র উন্নয়নে সামাজিকভাবে সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন বলে তারা উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে গবেষণার আলোকে নীতি নির্ধারনী পর্যায়ের সুপারিশমালা তুলে ধরা হয় যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল শিশুযত্নকে একটি সার্বজনীন শ্রম অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, শিশু পরিচর্যাকে কক্ষভিত্তিক থেকে সেবাভিত্তিক পর্যায়ে রূপান্তর করা এবং একে জাতীয় বিধিমালা ও মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্য করা, শ্রম অধিকার ও সামাজিক নীতিতে শিশু পরিচর্যাকে অন্তর্ভুক্ত করা, সুশাসন, পরিদর্শন ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদার করা, যৌথ দায়িত্ব ও অংশীদারিত্বকে উৎসাহিত করা, শিশু পরিচর্যা কর্মীদের পেশাদারীকরণ ও সেবার মান নিয়ন্ত্রণ করা।