সুস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং সার্বিক সামাজিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে গুলশান ক্লিনিক লিমিটেড (ইউনিক গ্রুপের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান) দেশের অন্যতম আধুনিক ও বিশ্বস্ত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে। উন্নত ডায়াগনস্টিক সুবিধা, আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি, অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের চেম্বার এবং রোগীবান্ধব সেবার সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে একটি শক্তিশালী সুনাম গড়ে তুলেছে। ধারাবাহিকভাবে উন্নত সেবা ও দায়িত্বশীল স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের মাধ্যমে এটি রোগীদের আস্থা ও সন্তুষ্টি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
এই অগ্রযাত্রার ধারাবাহিকতায় নারীর ক্ষমতায়ন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে নিবেদিত অরাজনৈতিক ও অলাভজনক সংগঠন ‘আমরা নারী’-এর সঙ্গে গুলশান ক্লিনিক লিমিটেড-এর একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
‘আমরা নারী’ দীর্ঘদিন ধরে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, গবেষণা কার্যক্রম এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সংগঠনটির লক্ষ্য একটি সুস্থ, সচেতন ও মর্যাদাসম্পন্ন নারী সমাজ গড়ে তোলা, যেখানে নারীরা স্বাস্থ্যসেবা ও উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে সমান সুযোগ লাভ করতে পারে।
রাজধানীর গুলশান এলাকায় অবস্থিত গুলশান ক্লিনিক লিমিটেড-এর প্রাঙ্গণে এক মর্যাদাপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে গুলশান ক্লিনিক লিমিটেড-এর সিইও ও কনসালট্যান্ট রোটারিয়ান মো. মাসেকুর রহমান খান, পিএইচএফ এবং ‘আমরা নারী’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক এম এম জাহিদুর রহমান (বিপ্লব) আনুষ্ঠানিকভাবে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
গুলশান ক্লিনিক লিমিটেড-এর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন মো. রাসেল আহমেদ (সিনিয়র এক্সিকিউটিভ – অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফাইন্যান্স), মো. মাহতাব হাওলাদার (এক্সিকিউটিভ – অ্যাডমিন অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস), মোয়াজ্জেম হোসেন (অ্যাকাউন্টস)সহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ। অপরদিকে ‘আমরা নারী’-এর প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় ‘আমরা নারী’-এর সদস্যবৃন্দ, তাদের পরিবার এবং সহগামীদের জন্য গুলশান ক্লিনিক লিমিটেড মানসম্মত, সহজলভ্য ও মানবিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করবে। বিশেষভাবে শিশু ক্যান্সার, শিশুদের জন্মগত হৃদরোগ, জরায়ু ক্যান্সার, মা ও শিশুস্বাস্থ্যসহ সংশ্লিষ্ট জটিল রোগের চিকিৎসায় অগ্রাধিকার প্রদান করা হবে, যা এ উদ্যোগকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করেছে।
স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের পাশাপাশি উভয় প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে নারীর স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য শিক্ষা এবং বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে কাজ করবে। এর মাধ্যমে একটি সুস্থ, সচেতন ও ক্ষমতায়িত নারী সমাজ গঠনে কার্যকর অবদান রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।
এই সমঝোতা স্মারক শুধুমাত্র একটি প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা নয়; বরং এটি নারীর সুস্বাস্থ্য, মর্যাদা ও উন্নয়নের পথে একটি সময়োপযোগী, মানবিক ও দূরদর্শী পদক্ষেপ। ভবিষ্যতে এই অংশীদারিত্ব আরও সম্প্রসারিত হয়ে দেশের নারীদের জন্য একটি টেকসই ও কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো গড়ে তুলবে, এমন প্রত্যাশাই সংশ্লিষ্ট সকলের।