ঢাবি দিবসে
সাইকেল র্যালির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ,বলেন,পরিবেশ রক্ষা, স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন নিশ্চিত করতে সাইকেলের ব্যবহার বৃদ্ধি সহ আমি মনে করি, সাইকেল লেন বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত প্রয়োজন।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে
১০৬ তম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস
উপলক্ষে আকিজ সাইক্লিং ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাইক্লিং ক্লাবের যৌথ উদ্যোগে বর্ণাঢ্য স্টান্ট শো ও সাইকেল র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাইক্লিং ক্লাবের সভাপতি তৈহিদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
উদ্বোধনী বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, “পরিবেশ রক্ষা, স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন নিশ্চিত করতে সাইকেলের ব্যবহার বৃদ্ধি করা জরুরি। আমি মনে করি, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে সাইকেল লেন বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত প্রয়োজন।”
অনুষ্ঠানে সাইক্লিংপ্রেমী শিক্ষার্থী, তরুণ-তরুণী ও বিভিন্ন সাইক্লিং সংগঠনের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। স্টান্ট শো ও র্যালির মাধ্যমে নিরাপদ সাইক্লিং, পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা এবং সাইকেল লেন বাস্তবায়নের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
অংশগ্রহণকারীরা
দেশের বিভিন্ন সড়কে নিরাপদ সাইক্লিং পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাইক্লিং ক্লাবের উদ্যোগে “আকিজ বাইসাইকেল প্রেজেন্টস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস বর্ণাঢ্য সাইকেল উৎসব–২০২৬” বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় প্রক্টর মো. ইসরাফিল প্রাং (ইসরাফিল রতন), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাইক্লিং ক্লাবের মডারেটর ড. এ. কে. এম. নূর আলম সিদ্দিকী, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. উজ্জ্বল কুমার মল্লিক, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও শিল্পোদ্যোক্তা শিকদার মো. মেছবাহ উদ্দিন এবং শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. সিফাত সালেহ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাইক্লিং ক্লাবের সভাপতি তাওহীদুর রহমান এবং সঞ্চালনা করেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ মাহমুদ।
জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। এরপর অতিথিদের বক্তব্য প্রদান করা হয়। এছাড়াও ছিল আকর্ষণীয় সাইকেল স্টান্ট শো, ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতা, ইনস্ট্যান্ট প্রশ্নোত্তর পর্ব, র্যাফেল ড্র এবং বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম। পরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য সাইকেল র্যালি বের হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে পুনরায় শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়। দিনটির বিভিন্ন আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাবেক সদস্য, বিভিন্ন সাইক্লিং কমিউনিটির সদস্য এবং শতাধিক সাইক্লিস্টের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, “সাইক্লিং একটি স্বাস্থ্যকর, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই যাতায়াত ব্যবস্থা। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাইক্লিং সংস্কৃতি গড়ে তুলতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাইক্লিং ক্লাবের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এ ধরনের আয়োজন তরুণ সমাজকে সুস্থ জীবনধারা ও পরিবেশ সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ করবে।”
বিশেষ অতিথিদের পক্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাইক্লিং ক্লাবের মডারেটর ড. এ. কে. এম. নূর আলম সিদ্দিকী বলেন, “বর্তমান সময়ে পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। একটি আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপদ সাইক্লিং অবকাঠামো নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে আরও বেশি শিক্ষার্থী নিয়মিত সাইকেল ব্যবহারে উৎসাহিত হয়।”
সভাপতির বক্তব্যে তাওহীদুর রহমান বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাইক্লিং ক্লাব প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নিরাপদ সাইক্লিং, সুস্থ জীবনধারা এবং পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা চাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম সেরা সাইকেলবান্ধব ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে উঠুক।”
সাধারণ সম্পাদক সাঈদ মাহমুদ তাঁর বক্তব্যে ক্লাবের পক্ষ থেকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পৃথক সাইকেল লেন নির্মাণ, প্রতিটি আবাসিক হল ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে নিরাপদ সাইকেল গ্যারেজ স্থাপন এবং সাইকেল ও সাইকেল-সংশ্লিষ্ট পণ্যের ওপর আরোপিত কর হ্রাস এখন সময়ের দাবি। তিনি আরও বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাইকেল ব্যবহারের প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে, পরিবেশবান্ধব যাতায়াত ব্যবস্থা আরও জনপ্রিয় হবে এবং একটি নিরাপদ ও টেকসই সাইকেলবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে উঠবে।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সাইকেল লেন বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি আমি ইসলাম টুববুস।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতা, ইনস্ট্যান্ট প্রশ্নোত্তর এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাইক্লিং সংস্কৃতির বিকাশ, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ সড়ক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।