লতিবাবাদ ইউনিয়নের ৪৬০ জন নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড। ২০২২ সালের জনশুমারিভিত্তিক হালনাগাদ পিএমটি স্কোরে নির্বাচিত সুবিধাভোগী ।। চলতি বছরেই ৪ কোটি ৪৫ লক্ষ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ
আজ ১৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখ বিকাল ৩.৩০ টায় পুরাতন স্টেডিয়াম, কিশোরগঞ্জ পৌরসভায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান এমপি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে তিনি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ০২ নং লতিবাবাদ ইউনিয়নের ০৮ নম্বর ওয়ার্ডে নতুনভাবে নির্বাচিত ৪৬০ জন নারীর ফ্যামিলি কার্ড ওয়ালেটে জিটুপি (G2P) পদ্ধতিতে সরাসরি নগদ অর্থ সহায়তা প্রেরণ করেন এবং তাঁদের মধ্য থেকে ১০ জনের হাতে ফ্যামিলি কার্ড হস্তান্তর করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মিজ্ ফারজানা শারমীন এমপি, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব মোঃ শরীফুল আলম এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ। এ ছাড়া সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এমপি।
‘ফ্যামিলি কার্ড’ বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত একটি অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি, যার মূল দর্শন— ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক। কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত প্রতিটি পরিবার মাসিক ২,৫০০ টাকা হারে নগদ সহায়তা পাবে এবং কার্ডটি ইস্যু করা হয় পরিবারের মা অথবা জ্যেষ্ঠ নারী সদস্যের নামে। সুবিধাভোগী নির্বাচনে কোনো সুপারিশ বা দলীয় বিবেচনা নয়, ব্যবহার করা হয়েছে বৈজ্ঞানিক প্রক্সি মিনস টেস্ট (PMT) স্কোরিং পদ্ধতি। উল্লেখ্য, পাইলটিং পর্যায়ে ২০১৬ সালের খানা আয়-ব্যয় জরিপভিত্তিক পিএমটি মডেল ব্যবহৃত হয়েছিল। চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ২০২২ সালের জনশুমারি ও খানা জরিপের ভিত্তিতে পিএমটি স্কোর পদ্ধতি ও তথ্য সংগ্রহ ফর্ম হালনাগাদ করেছে। হালনাগাদ পদ্ধতিতে পরিবারগুলোকে অর্থনৈতিক অবস্থার ভিত্তিতে পাঁচটি কোয়ান্টাইলে ভাগ করা হয়েছে এবং ৩য় কোয়ান্টাইল পর্যন্ত, অর্থাৎ পিএমটি স্কোর ৮৬০ পর্যন্ত থাকা পরিবারগুলো ফ্যামিলি কার্ডের জন্য নির্বাচিত হবে।
হালনাগাদ পিএমটি পদ্ধতির প্রথম বাস্তব প্রয়োগ ঘটেছে লতিবাবাদ ইউনিয়নের ০৮ নম্বর ওয়ার্ডেই। নতুন ফর্ম ও নতুন স্কোরিং পদ্ধতি অনুযায়ী পরীক্ষামূলকভাবে সেখানে মোট ১,১০৭টি খানার শতভাগের তথ্য সংগ্রহ ও এন্ট্রি করা হয়। হালনাগাদ পিএমটি স্কোরে যোগ্য বিবেচিত হয় ৪৬২টি পরিবার। স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে অর্থ বিভাগের iBAS++ সিস্টেমের সঙ্গে যাচাই করে ৫ লক্ষ বা তদূর্ধ্ব মূল্যের সঞ্চয়পত্র থাকায় ২টি পরিবারকে বাদ দেওয়া হয়। চূড়ান্ত সুবিধাভোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৬০।
ফ্যামিলি কার্ড: এক নজরে
| বিষয় | তথ্য |
| 2025-26 অর্থবছরে পাইলটিং এর পরিধি | ৮ বিভাগের ৪২ জেলার ৫৫টি ইউনিট |
| পাইলটিং এ জরিপকৃত খানা | ১,০৯,৬৭৯টি ।। যোগ্য: ৭৬,৯১৫টি |
| জুন মাসে ইএফটিতে অর্থপ্রাপ্ত | ৭০,৮৬১টি (৯২.১৩%) (৭.৬৭% সঞ্চয়পত্র, গাড়ী, সরকারী চাকরী ইত্যাদি কারণে বাদ |
| হালনাগাদ পিএমটি | ২০২২ সালের জনশুমারি ও খানা জরিপভিত্তিক (বিবিএস) |
| যোগ্যতার সীমা | ৩য় কোয়ান্টাইল পর্যন্ত (স্কোর ৮৬০ পর্যন্ত) |
| মাসিক সহায়তা | প্রতি পরিবারে ২,৫০০ টাকা |
| চলতি অর্থবছরে তথ্য সংগ্রহ | দেশের সব পরিবার— ৪ কোটি ৪৫ লাখ খানা (প্রাক্কলিত) |
| তথ্য সংগ্রহ সম্পন্নের লক্ষ্য | সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
| সারাদেশে প্রথম ধাপে অন্তর্ভুক্তি শুরু | অক্টোবর। ২০২৬-27 অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা ৪১ লাখ পরিবার |
| সারাদেশে ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা | ১ কোটি ৬১ লাখ পরিবার |
কর্মসূচির পাইলটিং পর্যায় ২০১৬ সালের খানা জরিপভিত্তিক পিএমটি মডেল ব্যবহার করে গত ১০ মার্চ ২০২৬ তারিখে শুরু হয় এবং দেশের ৮টি বিভাগের ৪২টি জেলার ৫৫টি ইউনিটে তা সফলভাবে সম্পন্ন হয়। পাইলটিং এলাকায় ১,০৯,৬৭৯টি খানার তথ্য ডিজিটাল ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাচাই-বাছাই শেষে ৭৬,৯১৫টি পরিবার যোগ্য বিবেচিত হয় এবং গত জুন মাসে ৭০,৮৬১টি পরিবারের ব্যাংক বা মোবাইল হিসাবে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (EFT) মাধ্যমে সরাসরি অর্থ পৌঁছে দেওয়া হয়— যা যোগ্য তালিকার ৯২.১৩ শতাংশ।
জাতীয় পর্যায়ে কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা ২০২৬’ ও ১৪টি ফর্ম এবং ৫টি SOP সংবলিত ‘ফ্যামিলি কার্ড খানা তথ্যভাণ্ডারের তথ্য সংগ্রহ নির্দেশিকা, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর কারিগরি সহায়তায় পিএমটি স্কোর পদ্ধতি ও খানা তথ্য সংগ্রহ ফর্ম হালনাগাদ করা হয়েছে এবং শুমারি-জরিপ পরিচালনার অনাপত্তিপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। কার্যক্রমটি বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন SSPIRIT প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
দেশব্যাপী তথ্য সংগ্রহের জন্য ৬৬,৮১৫ জন তথ্যসংগ্রহকারী ও ৬,৬৮১ জন সুপারভাইজার নিয়োজিত হবেন। এ পর্যন্ত তথ্যসংগ্রহকারী পদে ৭৮.৩২% এবং সুপারভাইজার পদে ৭৮.২৪% নিয়োজন চূড়ান্ত হয়েছে; দেশের ২০টি জেলায় শতভাগ নিয়োজন সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে কিশোরগঞ্জ জেলাও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য ৮ স্তরে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আগস্টের মধ্যে সম্পন্ন হবে।
আজকের অনুষ্ঠানে ফ্যামিলি কার্ড ছাড়াও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার কর্মসূচির আওতায় সর্বমোট ৫৩৫ জন উপকারভোগীর মধ্যে ২৮,০০,০০০ টাকার আর্থিক ও পুনর্বাসন সহায়তা প্রদান করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে জটিল রোগে আক্রান্ত ১০ জনকে জনপ্রতি ১ লক্ষ টাকা, ৫০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা, ৫ জন দুঃস্থ ও অসহায় ব্যক্তিকে জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা এবং ১০ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে জনপ্রতি ১০ হাজার টাকার অনুদান। এ ছাড়া একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির হাতে চাকরির নিয়োগপত্র হস্তান্তর করা হয়।
আগামী সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের মধ্যে সারা দেশে একযোগে সমন্বিত ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এবার নমুনা নয়— দেশের প্রতিটি পরিবার, অর্থাৎ আনুমানিক ৪ কোটি ৪৫ লক্ষ খানার তথ্য সংগ্রহ করা হবে এবং সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে পিএমটি স্কোর নির্ণয় করে ধাপে ধাপে সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হবে। প্রথম বছর, অর্থাৎ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা ৪১ লক্ষ পরিবার, যাদের অন্তর্ভুক্তি শুরু হবে অক্টোবর ২০২৬ থেকে। পর্যায়ক্রমে সম্প্রসারণের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে ১ কোটি ৬১ লক্ষ পরিবারকে এই সামাজিক সুরক্ষা বলয়ে অন্তর্ভুক্ত করে একটি দারিদ্র্যমুক্ত, ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।