ক্ষুদ্র ঋণ নয়, ক্ষুদ্র মূলধন দেওয়ার মাধ্যমে মেঘনাপাড়ের ধীবর সম্প্রদায়কে উদ্যোক্তা বানানোর আহ্বান
মেঘনাপাড় ট্রাস্টের উদ্যোগে আজ বৃহস্পতিবার এক বিশেষ সেমিনার, ট্রাস্টের পরিচিতি এবং স্মারকগ্রন্থ ‘স্বপ্নবুনন’-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। সরকারি বাঙলা কলেজে বেলা ২.৩০ থেকে ৪.৩০ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই সেমিনারের মূল বিষয় শিরোনাম ছিল— “ক্ষুদ্র ঋণ নয় ক্ষুদ্র মূলধন চাই, ঋণগ্রহীতা নয় উদ্যোক্তা বাড়াই”।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেঘনাপাড় ট্রাস্টের প্রধান উপদেষ্টা ও টিআইবি-এর চেয়ারপার্সন জনাব মনসুর আহমেদ চৌধুরী। মেঘনাপাড় ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ও টিআইবি সদস্য ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারি বাঙলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর মিটুল চৌধুরী, একই কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন চৌধুরী, চ্যানেল এস (Channel S)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও জনাব সুজিত চক্রবর্তী এবং প্রথম আলো ট্রাস্টের সমন্বয়ক জনাব মাহবুবা সুলতানা।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রফেসর মোঃ আক্তারুজ্জামান ভূঞা। তিনি তাঁর প্রবন্ধে ‘এডুকেশন বেজড প্রোডাকশন অ্যান্ড মার্কেটিং’ বা ইবিপিএম (EBPM) মডেলের বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। একই সাথে তিনি ৭ কোটি টাকার একটি বিশেষ বাজেট উপস্থাপন করে জানান, কিভাবে এই বাজেট দিয়ে লক্ষ্মীপুরের মজু চৌধুরীহাটের মেঘনাপাড়স্থ অবহেলিত জেলে সম্প্রদায়ের কারিগরি শিক্ষা এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।
বক্তব্যের শুরুতে স্বাগত জানিয়ে প্রফেসর মোঃ আক্তারুজ্জামান ভূঞা বলেন, জেলেদের ভাগ্য পরিবর্তনে সনাতন ঋণের বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে তাদের স্বাবলম্বী করা জরুরি। বিশেষ অতিথিবৃন্দ এই দূরদর্শী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এই উদ্যোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। একই সাথে তাঁরা মেঘনাপাড় ট্রাস্টের এই মানবিক ও অর্থনৈতিক যাত্রায় পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জনাব মনসুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর টেকসই উন্নয়নের জন্য এই ধরনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ বাঁচিয়ে রাখা এবং একে সফল করা অত্যন্ত প্রয়োজন। ঋণ নয়, বরং মূলধন ও সঠিক শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমেই প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব।
অনুষ্ঠানে ধীবর (জেলে) জনগোষ্ঠীর জীবন সংগ্রাম, সংকট ও সম্ভাবনা নিয়ে নির্মিত একটি তথ্যবহুল প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, মেঘনাপাড় ট্রাস্টের মাধ্যমে মেঘনাপাড় কবরস্থান প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। ১১ শতাংশ জমি ক্রয়ের মাধ্যমে এই কবরস্থান হতে যাচ্ছে। কবরস্থান এবং মসজিদ কমপ্লেক্স করার জন্য আরও ৫ শতাংশ জমি ক্রয় প্রক্রিয়াধীন। ২০২৫ সালে ২০ শতাংশ জমি ক্রয়পূর্বক ২২০০ বর্গফুট বিশিষ্ট একটি বিল্ডিং ও করা হয়েছে ট্রেডভিত্তিক প্রশিক্ষণের জন্য। মেঘনাপাড় ধীবর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বাস্তবায়িত হলে মেঘনাপাড়ের অবহেলিত জেলে জনগোষ্ঠী সমাজের মূলস্রোতে ফিরে আসবে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরাসরি অবদান রাখতে সক্ষম হবে। পরিশেষে তিনি উপস্থিত সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।